• বৃহস্পতিবার   ২২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪২৮

  • || ১১ রমজান ১৪৪২

আনারসের রাজ্য রাবান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২১  

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাবান এলাকায় এ বছর আনারসের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে রাবানের আনারস সারাদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে এখানকার আনারসের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ফলন ভালো হলে প্রতি বছর পলাশে আয় হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার কিছু অংশ ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জমি আবহাওয়ার দিক থেকে আনারস চাষের উপযোগী। এ এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে আনারস।

দেশীয় প্রজাতির আনারস প্রায় ১৫০ বছর ধরে এ এলাকায় চাষ হয়। ধীরে ধীরে এ জাতটির গুণগত মান ও গঠনগত আকৃতি লোপ পায়। পরে রাবানের এক ব্যক্তি সিলেটে বেড়াতে গেলে সেখান থেকে একটি আনারসের চারা এনে রোপণ করে ব্যাপক প্রসার ঘটান। পরবর্তীতে এখানে দেশীয় প্রজাতির আনারসের বিলুপ্তি ঘটে।

সিলেটে চাষ করা আনারসের জাতটি সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে তেমন খাপ না খাওয়ায় সুস্বাদু ও মিষ্টি ছিল না। কিন্তু সেই জাতটি পলাশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খেলে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৪১ বছর আগে সিলেটের আনারসের এ জাতটি পলাশের রাবানে আসে। এরপর থেকেই সফলতা পান এ এলাকার চাষিরা। এ জাতটি জলডুগি আনারস নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এর বৈজ্ঞানিক নাম হানিকুইন। টেঙ্গর এলাকার জমিতে এ আনারসের চাষ ভালো হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, পলাশ উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়।

এ বছর পরিমল সেন ৬ বিঘা ও বিমল সেন ৮ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করেন। তারা দুজনই প্রায় ৩৩ বছর ধরে আনারস চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করা যায় ৭৫-৮০ হাজার টাকার মতো। এতে বহুগুণ লাভ হয়। অনেকে আনারস চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন।

চাষিরা জানান, আনারস পচনশীল ফল হিসেবে এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সংরক্ষণের জন্য পলাশে কোনো হিমাগার নেই। আধুনিক সভ্যতার যুগেও পলাশে সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমেই আনারস চাষ হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ হলে আরো অধিক ফলন হতো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু নাদির এসএ সিদ্দিকী বলেন, এ বছর পলাশে আনারসের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮শ’ মেট্রিক টন। গত বছর অতি খরায় আনারসের আকার একটু ছোট ছিল। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ টন আনারসের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, ৮০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত একেকটি আনারসের ওজন হয়। চাষিরা এ বছর অধিক লাভের মুখ দেখতে পাবেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ