• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

৬৭৬

আদিবাসী নারীরা যেখানে ভোট দেন স্বামীর নির্দেশে: সিরাজগঞ্জ-৩

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  

সিরাজগঞ্জের-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে আদিবাসী প্রান্তিক নারীদের এখনও ভোটদানের বিষয়টি নির্ধারণ করেন পরিবার প্রধান পুরুষ সদস্য। যদিও তারা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে মাঠে কাজ করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের মোট সাতজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আদিবাসী নারী-পুরুষদের ভোট নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে বড় একটা ফ্যাক্টর। তাই তাড়াশ-রায়গঞ্জের আদিবাসী নারী-পুরুষ ভোটারদের কদরও রয়েছে বেশ। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের দুটি উপজেলার মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলায় পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে মোট ভোটার দুই লাখ ২৬ হাজার ৯৭ জন। আর তাড়াশ উপজেলায় পৌরসভাসহ আট ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৮ জন। আদিবাসী অধ্যুষিত তাড়াশ-রায়গঞ্জ উপজেলায় মাহাতো, ওঁড়াও, রবিদাস, কণক দাস, সাঁওতাল, তেলি, তুড়ি, শিং, বড়ইক, রাই, বেদিয়া মাহাতো সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় বসবাস করেন। তাদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়েই মাঠে, ইটভাটা সহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

সিরাজগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে ২০-২২ হাজার বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ভোটার রয়েছেন। সাধারণত আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন সহজ-সরল হওয়ায় তাদের ভোট পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের তেমন বেগ পেতে হয় না। গুড়পিপুল গ্রামের আদিবাসী ভোটার নৃপেণ শিং, বাসন্তী বালা, হরেন্দ্র ওঁড়াওসহ অনেকে জানান, ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা আদিবাসী নারী ভোটারদের চেয়ে পুরুষদের প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কেননা, এখন পর্যন্ত আদিবাসী বেশিরভাগ সম্প্রদায়ের প্রান্তিক নারীদের ভোট প্রদানের বিষয়টি নির্ধারণ করে থাকেন ওই পরিবারের প্রধান পুরুষ সদস্যই।

মাধাইনগর গ্রামের কুন্তি রানী মাহাতো জানান, ভোটের দিনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই কোন মার্কায় ভোট দিতে হবে তা তার স্বামী নির্মল মাহাতোই ঠিক করে দেবেন। তিনি আরও জানান, বাবার পরিবারে থাকার সময় তার মা বাবার কথায় ভোট দিতেন। বিয়ের পর স্বামীর পরামর্শেই ভোট দেবেন তিনি।

তাড়াশ উপজেলা আদিবাসী বহুমুখী সমিতির সভাপতি বীরেন্দ্র নাথ মাহাতো জানান, আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষার হার কম থাকায় পরিবারের পুরুষ প্রধানই স্ত্রী, কন্যা, জায়া, জননীর ভোটের বিষয়টি নির্ধারণ করে দেন বহু বছর ধরে। বংশ পরম্পরায় এমনটি হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করেনি। তারা মেনেই নিয়েছেন, তাদের ভোটদানের বিষয়টি পরিবারের প্রধান ভাই, বাবা, কিংবা স্বামী নির্ধারণ করে দেবেন।

তাড়াশ রায়গঞ্জের ওঁড়াও ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক যোগেন্দ্র নাথ টপ্য বলেন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থীদের কাছে আদিবাসী নারী ভোটারদের চেয়ে পুরুষ ভোটারদের ভোটের সময় কদর বেশি। কারণ পরিবার প্রধান পুরুষের কথাতেই তারা ভোট দিয়ে থাকেন। পরিবার প্রধান পুরুষ সদস্যের কথাই শেষ কথা। এর ব্যতিক্রমও কিছু রয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ