• শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

অনুদানের টাকায় স্থাপনা, মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছে শতাধিক এতিম

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০১৯  

বরিশালের পলাশপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছ গ্রামের রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা। পানি বা বিদ্যুৎ নয় না খেয়েও জীবন-যাপন করছে এখানকার শতাধিক এতিম শিশু।

এই সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয়রা অবগত হলেও তারা কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন ছাত্র-শিক্ষকরা। সমস্যাটি সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফিরোজী।

তিনি বলেন, এক বছর আগেও এই এতিমখানা ও মাদরাসাটি একটি ভাড়া বাড়িতে ছিলো। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় ফিচার প্রকাশিত হলে তা মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নজরে আসে। পরে তিনিসহ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা অনুদানও প্রদান করেন।

কিন্তু সেই অনুদান দিয়ে জমি ক্রয়, চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে প্লাস্টারের কাজ। এরইমধ্যে অনুদানকৃত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থ সঙ্কটে ভুগছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তার ওপর রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা।

শুধু তাই নয় অর্থের অভাবেও না খেয়ে জীবন-যাপন করছে শতাধিক এতিম শিশু। এক সপ্তাহ ধরে মাদরাসায় চাল-ডাল না থাকায় দুপুরে মুড়ি খেয়ে বেচেঁ আছে তারা। 

মাদরাসার পরিচালক ফিরোজী সাহেব কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কষ্টের পরে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ স্যারের কারণে একটু মাথা গোঁজার ঠাই হয়েছে। তবে যে টাকা পেয়েছি তার কাজের পিছনেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ সব শেষ হয়নি। তার মধ্যে ছাত্রদের খাবার , বিদ্যুৎ,পানি সংকটের পাশাপাশি খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে।

ছোট ছোট এতিম শিশুদের দুপুরে ভাতের পরির্বতে মুড়ি খাওয়াতে হচ্ছে। কোন মহান ব্যক্তি মাদরাসার এতিম শিশুর খাবার জন্য চাল দান করলে এই সমস্যা দেখতে হতো না। টাকা জন্য সমাজের বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, এতিমখানাটি হওয়ায় সমাজের বিত্তবানদেরও তেমন নজর নেই। প্রতিবছর অনেক এতিম শিশুকে ভর্তি না করেই ফেরত দিতে হয় তাদের। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় শতাধিক এতিম শিশুর মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ